ফ্যাসীবাদের সার্বজনীন স্বীকৃতির প্রচেষ্টা করলে তিন বছর জেল অথবা তিন লক্ষ রুবল জরিমানা আদায়ের শাস্তি হওয়া দরকার, রাশিয়ার পার্লামেন্টের প্রতিনিধিরা ফৌজদারী আইনের নূতন সংযোজনে নাত্সীবাদের পূণর্জন্ম বিষয়ক ধারাতে এই অংশটি জুড়তে চলেছেন. এর মানে হল যে কোন লোক, তার নাগরিকত্ব, বাসস্থান ইত্যাদি বিষয় নিরপেক্ষ ভাবে যদি ফ্যাসীবাদের সার্বজনীন স্বীকৃতির প্রচেষ্টা করে বা সোভিয়েত সংঘের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়কে অস্বীকার করে ও ন্যুরেমবার্গ বিচারের রায়কে না মানতে চায় তবে তাকে এই শাস্তি পেতে হবে.

ঐতিহাসিক সত্যের বিকৃতির ও তার সার্বজনীন স্বীকৃতির প্রচেষ্টার অপরাধে শাস্তির প্রচলন কোনো নতুন বিষয় নয়, হলোকাস্টের অস্বীকার করার অপরাধে ইউরোপের নানা দেশে বহু লোকের শাস্তি এর আগেও হয়েছে, ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডাতে তুত্সী প্রজাতির লোকেদের গণহত্যার অস্বীকারের জন্যও অনেকে শাস্তি পেয়েছে. বাল্টিক দেশগুলিতে নিয়ম করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রাশিয়ান প্রবীণ যোদ্ধাদের মিথ্যা অভিযোগে বিচারের নামে প্রহসন ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিজয়ের চিহ্ণস্বরূপ স্মৃতিফলক ও মনুমেন্টের নিয়মিত অপসারণ, বাধ্য করেছে রাশিয়ার দুমাকে এই আইন সংশোধনে. এই আইন সংশোধনের আগে সারা রাশিয়া জনমত সমীক্ষা কেন্দ্র যে রিপোর্ট তৈরী করেছে তাতে রাশিয়ার পার্লামেন্টের প্রতিনিধিরা দেখতে পেয়েছেন যে, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতে, শাস্তি হওয়া দরকার.

সারা রাশিয়া জনমত সমীক্ষা কেন্দ্রের প্রতিনিধি ওলগা কামেনচুক পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদের এই প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন যে,

সংখ্যাগরিষ্ঠের মতে, আর এটা শতকরা ৬০ ভাগ উত্তরদাতা- এই প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়েছে. উত্তরদাতাদের বয়স যত বেশী ততই এই বিষয়ে তাদের মনোভাব নির্দিষ্ট. যুদ্ধের স্মৃতি আজও তাদের মন থেকে মুছে যায়নি, তাঁরা তাদের কাছের মানুষদের হারানোর শোক ভোলেননি ও এই জন্যেই পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদের এই প্রচেষ্টাকে এঁরা এতটাই সমর্থন করেছেন. এ ছাড়া অধিকাংশই (প্রায় ৭৭ ভাগ উত্তর দাতা) বলেছেন যে, সোভিয়েত সৈন্যরা ইউরোপের বহু দেশে স্বাধীনতা ফিরিয়ে এনেছে ও সুযোগ করে দিয়েছে এই দেশগুলির উন্নতির.

     যদিও  ওলগা কামেনচুকের মতে ইউরোপের অন্যান্য দেশে এমন সমীক্ষা হলে দেখা যাবে যে, গুরুত্ত্বমন্য ঐতিহাসিকেরা ও প্রবীণ নাগরিকেরা আজও সোভিয়েত সৈন্যদের ভূমিকা ও সোভিয়েত সংঘের নেতৃত্ত্ব স্বীকার ও সমর্থন করে কিন্তু আধুনিক রাজনীতিকদের প্ররোচনা ও মিথ্যা প্রচারের বশবর্তী হয়ে ইউরোপীয় অধিকাংশ যুব সমাজ এই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর্যায়ক্রমের ঐতিহাসিক সত্যের সম্বন্ধে ভুল ধারণা নিয়ে বেঁচে আছে.