বিগত কয়েক দিনের মধ্যে পাকিস্থানের গুরুতর রাজনৈতিক অবস্থার সম্বন্ধে দুটি ঘোষণা করা হয়েছে. তালিবদের প্রতিনিধি মুসলিম খান জানিয়েছেন যে, তালিবান আন্দোলনের নেতারা পাকিস্থানের সরকারের সঙ্গে শান্তি ঘোষণায় রাজি নয়. সোয়াত উপত্যকা অঞ্চলে পাকিস্থানের সরকার শরিয়তের শাসন জারি করতে রাজি হলে এর আগে তালিবেরা গৃহযুদ্ধ বন্ধ করবে বলে কথা দিয়েছিল. দ্বিতীয় ঘোষণাটি করেছেন, মাকির্ন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক বাহিনীর প্রধান ডেভিড পেত্রেউস. উনি পাকিস্থানের সরকারকে সাবধান করেছেন যে, সরকার বাধা না দিতে পারলে তালিবেরা আর মাত্র দু সপ্তাহের মধ্যেই  ইসলামাবাদ দখল করে নিতে পারে. প্রথমতঃ অবাক হওয়ার মত ব্যাপার হল এই যে ২০০১ সালে আফগানিস্থানে তালিব সরকারের পতনের পর ধরে নেওয়া হয়েছিল তালিবান আন্দোলনের শেষ ঘনিয়ে এসেছে. কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল এই আন্দোলন শুরুতে আফগানিস্থানে ও বর্ত্তমানে পাকিস্থানে ছড়িয়ে পড়েছে. তালিবদের এই শক্তির ও অবিনশ্বরতার উত্স কোথায়? কেন পাকিস্থানের অবস্থা আশঙকাজনক? এ প্রশ্নগুলির উত্তরে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বিশ্ব অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ভ্লাদিমির সোত্নিকোভ তার “রেডিও রাশিয়া” কে দেওয়া ইন্টারভিউতে যা বলেছেন

বাস্তবে পাকিস্থানের সরকার বহুদিন ধরেই সামরিক বাহিনীকে এই সমস্যার সমাধানে কোন অংশগ্রহণ করতে আদেশ করেনি. এর কারণ অন্তত দুটো. পাকিস্থানের সামরিক বাহিনীর অনেকেই তালিব সমর্থক, বিশেষতঃ নিম্নপদস্থ অফিসারেরা ও সাধারণ সৈনিকেরা, যারা তালিবদের ধর্ম ভাই বলে মনে করেন. এমনকি কয়েকজন পাকিস্থানী, যাদের সঙ্গে কয়েকদিন আগেই আমার কথা বলার সুযোগ হয়েছে, তারাও মনে করেন যে, পাকিস্থানের সামরিক বাহিনীর অর্ধেক সদস্যই হল তালিব. অন্যদিকে পাক সামরিক বাহিনীর উচ্চপদের অফিসারেরা এতদিন চুপ করেছিলেন এই ভেবে যে, আমজনতা বুঝতে পারুক যে সমস্যার নিয়ন্ত্রণ তাদের আয়ত্তের বাইরে. পাকিস্থানের সরকারের প্রধানেরা বোধহয় আশা করে বসেছিলেন যে তালিবেরা শান্তিচুক্তি মেনে চলবে এবং সামরিক বাহিনীকে এখন যুদ্ধ করতে আদেশ দিতে বাধ্য হয়েছেন মাকির্ন যুক্তরাষ্ট্রের চাপে পড়ে. তালিবদের এই শক্তির উত্স কি আর কেনই বা সম্ভব হচ্ছেনা ওদের দমন করা? আমার মনে হয় একদিকে পাকিস্থানের ও আফগানিস্থানের দুর্বল সরকার আর অন্যদিকে এখনকার তালিবান, যা মোটেও কোন দস্যূদল নয় বরং যথেষ্ট শিক্ষিত সামরিক বাহিনী, যারা ক্ষমতা রাখে সরকারের কেন্দ্রীয় সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার. এ ছাড়া অন্যসব আলোচনার আগে দেখতে হবে কোথা থেকে শুরু হয়েছে তালিবান আন্দোলন ও তাদের কার্যক্রমের আদর্শ কি? এই আন্দোলনের শুরু হয়েছিল পাকিস্থানের ও মাকির্ন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বিভাগের সহায়তায় পাকিস্থানের সীমানার মধ্যে, আফগানিস্থানে সোভিয়েত সামরিক উপস্থিতির মোকাবিলা করতে. এই আন্দোলনের সঙ্গে সামিল হতে মাকির্ন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় সৌদি আরব ও অন্যান্য দেশ থেকে ভাড়া করা সৈন্যদল রপ্তানী করা হয়েছিল আফগানিস্থানে, যারা সঙ্গে করে এনেছিল যুযুধান ইসলামী ধারণা ও জেহাদের আদর্শ. এই আদর্শে শিক্ষিত তালিবদের জন্য শুধুমাত্র সোভিয়েত সংঘই শত্রু ছিলনা এমনকি স্থানীয় শাসকরাও ছিল শত্রু, মাকির্ন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমী দেশগুলিও পরে হয়েছে এদের প্রতিপক্ষ. সোভিয়েত সংঘ আর নেই কিন্তু জেহাদের আদর্শে শিক্ষিত তালিবেরা ওদের যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে. যে বীজ এক সময় মাকির্ন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমী দেশগুলি বপন করেছিল, আজ তারই ফল নিজেরা পাচ্ছে.এটা ছিল আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বিশ্ব অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ভ্লাদিমির সোত্নিকোভের  “রেডিও রাশিয়া” কে দেওয়া ইন্টারভিউ.