ইরানের পারমানবিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার ধ্বংসের জন্য ইস্রাইল নিজের বিমান বাহিনী ব্যাবহারের প্রস্তুতি আবার প্রদর্শন করেছে. সামরিক অবস্থার কাছাকাছি পরিবেশে নিজের বিমান বাহিনীর অনুশীলন পরিচালনা করে সে আবার দেখিয়েছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলি তার জন্য তেহরানের পারমানবিক সমস্যা মীমাংসার নোংরা কাজ করতে প্রস্তুত.
অবশ্য, ইস্রাইলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ ধরনের অভিপ্রায়ের কথা কখনও গোপন করেনি. আর গুরুত্বপুর্ন ব্যাপার হল বিরোধী পক্ষ এবং ক্ষমতাশীন কোয়ালিশন উভয়েই একমত. এখানে এগুলো হচ্ছে এ ধরনের ধারনা থেকে যে ইরানের হাতে পারমানবিক অস্ত্র ইতিমধ্যেই আছে অথবা সে এ অস্ত্রের উত্পাদন থেকে মাত্র এক পা দুরে রয়েছে. আর যদিও আন্তর্জাতিক পর্জবেক্ষকরা এ সিদ্ধান্ত সমর্থন করেনা তবুও ইরানের তরফ থেকে বিপদ সম্পর্কে আলোচনা করতে লোকে ভালোবাসে. বিশ্ব জনসমাজকে উদ্বিগ্ন করে অন্য ব্যাপার- ইউরোনিয়ামের পরিশোধন নিয়ে কাজে তেহরানের একরোখামি এবং এ কর্মসূচী যে দুমুখো ব্যাবহারের নয় সে সম্পর্কে তথ্য দেবার ক্ষেত্রে আন্তরিকতার অভাব.

সামরিক বলের প্রদর্শন চালান হচ্ছে ইরানের উপর প্রভাব বিস্তারের জন্য ওয়াশিংটনের বাস্তববাদী দৃষ্টিভংগি প্রনয়নের পটভূমিতে. ওয়াশিংটন কোন প্রাথমিক ছাড়া সোজাসুজি আলাপ আলোচনা চালানর প্রস্তুতির কথা ঘোষনা করেছে. এভাবে নিজেকে আগের প্রশাসনের মাথামোটা স্থিতি থেকে সরিয়ে রাখছে. সবকিছু বিচার করে মনে হয় ইস্রাইল নিজের জোট শরিককে দেখাতে চায় যে তেহরানের সাথে শান্তিপুর্ন সংলাপের উপর সে আশা পোষন করে না. রেডিও রাশিয়াকে প্রদত্ত ইন্টারভিউতে এর প্রতি মনযোগ আকর্ষন করেন আমাদের বিশেষজ্ঞ ইরিনা জভিয়াগেলস্কায়া. তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে বলব যে নতুন রাষ্ট্রপতি মনে করেন যে একতরফাভাবে ইরানের উপর চাপ দেবার চেয়ে অনেক বেশি ফলপ্রসু হবে আলাপ আলোচনার প্রক্রিয়া. এমন পটভূমিতে ইস্রাইলের সামরিক প্রস্তুতি দেখতে কেমন লাগে. অর্থাত ইস্রাইল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সুযোগ সম্ভাবনার খুব একটা বিশ্বাস করে না.
আরও একটি উপাদান আছে যা উপেক্ষা করা যায় না. ১২ই জুন ইরানে অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন. আর সামরিক প্রস্তুতি এটা নির্বাচকদের উপর চাপ দেবার চেষ্টা ছাড়া কিছুই না. কারন ইরানে শাষন ক্ষমতায় আসতে পারে নরমপন্থী রাজনীতিবিদরা. তবে যারা ভোট দেবে তাদের উপর এটা কি প্রভাব বিস্তার করবে. এ চাপ উল্টো ফল দিতে পারে. ইরানীদের জাতীয় গর্ব- পারমানবিক শিল্পের ধ্বংসের বিপদ যেখানে রয়েছে সেখানে সংস্কারের খুব একটা ইচ্ছা থাকে না. আর বর্তমান রাষ্ট্রপতি আহমদিনেজাদ নিজের দেশের নাগরিকদের দেখাতে সক্ষম হয়েছেন যে ব্যাপারটা এরকমই.
অবশ্যই ইরানের বর্তমান নেতা নিজের একসারি ইস্রাইল বিরোধী বক্তৃতার দ্বারা নিজেই বিশ্ব জনসমাজের চোখে নিজের দেশের মর্জাদা ক্ষুন্ন করছেন. আর যদি বিবেচনায় রাখা হয় যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শক্তিশালী ইস্রাইল পন্থী লজিক কার্জকরি আছে তাহলে সন্দেহের অবকাশ থাকে না. ইরান সংক্রান্ত নীতির প্রনয়নে বারাক ওবামার প্রশাসনের উপর কি রকম চাপ পড়ছে.