পাকিস্থান নিজের পারমানবিক অস্ত্রের উপর নিয়ন্ত্রন হারাতে পারে. তালেবান আন্দোলন যা এ পর্জন্ত প্রতিবেশী আফগানিস্তানে তত্পর ছিল.এখন ক্রমেই নতুন নতুন এলাকা নিজের নিয়ন্ত্রনে আনছে, সেখানে শরীয়তের আদালত গড়ে তুলছে, কেন্দ্রীয় সরকারের আমলাদের উপেক্ষা করছে. তবে সরবপ্রধান বিষয় হল, জংগীরা দেশের রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে. বর্তমান অবস্থায় রাজধানী দখল এ হল সময়ের ব্যাপার.
পাকিস্থানের একাংশ- সোয়াত উপত্যকা এবং বুনের জেলা উপজাতিদের এলাকা হিসেবে জ্ঞ্যাত এবং তা বাস্তবিকপক্ষে তালিবদের দ্বারা দখলিত. কেন্দ্রীয় কতৃপক্ষ তাতে সমর্থন দিচ্ছে, অত্যাচার ও উত্পীড়ন এড়ানোর আশায়. মার্কিনী পররাষ্ট্র সচিব হিলারী ক্লিনটন. রবিবার ফক্স টেলিচ্যানেলকে প্রদত্ত ইন্টারভিউতে পাকিস্থানের ঘটনাবলীকে শান্তির জন্য মর্মান্তিক বিপদ বলে অভিহিত করেছেন. তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তালিবদের হাতে পারমানবিক অস্ত্র পড়ার সম্ভবনা উপলক্ষে. উল্লেখ্য যে ওয়াশিংটন নিজের আগেকার নীতির ফল পাচ্ছে. পাকিস্থানের পারমানবিক অস্ত্র তৈরী হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট নিরব সমর্থনে. কারন ইসলামাবাদ সরবদা মার্কিনী নির্ভরস্থল ছিল এবং হোয়াইট হাউজ তার পারমানবিক উচ্চাকাংখার প্রতি চোখ বন্ধ করে রেখেছিল. এখন পারমানবিক অস্ত্র ভান্ডারের চাবি সন্ত্রাসবাদীদের হাতে গিয়ে পড়তে পারে. এই সন্ত্রাসবাদীদের এক সময় তালিম দিয়েছিল, অস্ত্রে সজ্জিত করেছিল এবং অর্থ যুগিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র. পাকিস্থানের গোয়েন্দা বিভাগ আফগানিস্তানে সোভিয়েত উপস্থিতির বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্য. এখন তারই উল্টো ফল পাওয়া যাচ্ছে.

পাকিস্থান বাস্তবিকপক্ষে নিজের রাষ্ট্রীয় সত্তা হারানোর সম্ভাবনার সম্মুখিন হয়েছে. স্বভাবতই, তা ওয়াশিংটনের উদ্বেগ জাগায়, যা পররাষ্ট্র সচিবের কথায় ওয়াশিংটন ঘটতে দিতে পারেনা. এজন্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্থানের কেন্দ্রীয় শাষনের উপর চাপ দিচ্ছে- হারান অন্চল গুলির উপর নিয়ন্ত্রন ফিরিয়ে আনার জন্য. বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে এক মত যে হোয়াইট হাউজ এমনকি চোখ বন্ধ করে থাকবে পাকিস্থানে সামরিক কুদেতার সম্ভাবনার ক্ষেত্রে. রেডিও রাশিয়াকে প্রদত্ত ইন্টারভিউতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির সোতনিকোভ এ মত প্রকাশ করেন.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অবশ্যই পাকিস্থানকে হারাতে চাইবে না. আর মনে হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ ব্যাপারে কোন রকম পরিকল্পনা আছে পাকিস্থানী সশস্ত্র বাহিনীর সাথে মিলিতভাবে. নিকট ভবিষ্যতেই ইসলামাবাদ দখল সম্ভব. তবে আমার মনে হয় পাকিস্থানের সশস্ত্র বাহিনী জারদারী সরকারকে সরিয়ে তালিবদের প্রতিরোধ করবে. হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একত্রে অথবা তালিবান আন্দোলনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে জেতার চেষ্টা করবে.
বাস্তবতা হল এই যে প্রতিবেশী আফগানিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তত্তাবধানে অবস্থিত আন্তর্জাতিক সামরিক কোয়ালিশন এ অন্চলে একমাত্র শক্তি যা সন্ত্রাসবাদের প্রসারের প্রতিরোধ করতে সক্ষম. এ কোয়ালিশনের কার্জকলাপ মস্কোও সমর্থন করছে, তাদের যোগানের জন্য বিমান করিডোর খুলে. এ ইসলামিক চরমপন্থার প্রসারের প্রবনতা নিবারন করা যেতে পারে শুধু বিশ্ব জনসমাজের সাধারন প্রচেষ্টায়.