0উভয়ের পরস্পর স্বার্থ বিদ্যমান রেখেও রাশিয়া ও ইউরোপিয় ইউনিয়নের সম্পর্ক সম্পুর্নরুপে বিকাশিত করা সম্ভব. মস্কোর এই অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ক্রেমলিন. ইউরোপিয় সামাজিক কমিশনের চেয়ারম্যান জজ বারোজের সাথে এক আলোচনায়. আমাদের বিশেষ পর্যবেক্ষক ভিচেসলেভ কিসেলেভ এর বর্ননায়, রাশিয়া কতৃক দক্ষিন অসেটিয়া ও আবখাজিয়ার স্বাধীনতা স্বীকৃতির পর এবং ইউক্রেনের দায়িত্ব জ্ঞানহীনতার কারনে গ্যাস সংকট নিয়ে সমালোচনার পর ইউরোপিয় কমিশন প্রথম প্রচেষ্টা স্বরুপ রাশিয়া সফরে মস্কোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে. এসব ঘটনার মূল্যায়নের মাধ্যমে ক্রেমলিনের সাথে আলোচনার পর এখন সময় এসেছে সম্পর্ক উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নেয়ার. জজ বারোজু উল্লেখ করেন দুদেশের সম্পর্ক উন্নয়ন ছাড়াও বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংকটের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে. তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পর রাশিয়াই ইউরোপিয় ইউনিয়নের সবচেয়ে সক্রিয় ব্যাবসায়ী পার্টনার. তাই উভয়ের সম্পর্কের দুরত্ব সৃষ্টি হলে উভয়েরই স্বার্থের বিঘ্ন ঘটবে. যখন বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশেই অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব পড়েছে. তাই ইউরোপ ও রাশিয়া উভয়েই সম্পর্ক উন্নয়নে সমানভাবে আগ্রহী কারন কোন কোন বিষয়ে উভয়ে উভয়ের উপর পরস্পর নির্ভরশীল উল্লেখ করেন ইউরোপিয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জজ বারোজ. তাছাড়া রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন জজ বারোজের কথার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন- আমি ইউরোপিয় কমিশনের প্রেসিডেন্টের ভাষনের একটি প্রধান বিষয়ের উপর দৃষ্টি আকর্ষন করে বলতে চাই, তিনি বলেছেন আমরা একই সভ্যতার মানুষ এবং একই আইনে বসবাস করা উচিত. এবং তা অত্যান্ত গুরুত্তপূর্ন. যদি ইউরোপের কোন একটি অংশে একটি ক্ষুদ্র জাতি নিজেদের স্বাধীনতার ফল ভোগ করতে পারে তাহলে ইউরোপের অন্য একটি অংশের জাতিও সে ধরনের অধিকার রাখে. এবং জ্বালানী ক্ষেত্রেও সেরকম হওয়া উচিত. চলুন আমরা সবার জন্য সম অধিকারের বলয় নিয়ে কাজ করি যেখানে সবাই সমান সুযোগ পাবে. বিভিন্ন সংলাপ হওয়া উচিত সমঅধিকারের ভিত্তিতে. জজ বারোজের সংলাপ সম্মেলনের বিষয় পর্যালচনা করলে দেখা যায় তিনি ভ্লাদিমির পুতিনের বিষয়ে অন্য জনকে শিক্ষা দেয়া ত্যাগ করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের আহবান জানান.


0যখন ইউরোপিয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন যে ক্রেমলিনে প্রেসিডেন্ট দমিত্রি মেদভেদেভ এর সাথে আলোচনায় রাশিয়ার মানব অধিকারের সমস্যার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন- এ বিষয়ে ভ্লাদিমির পুতিন বলেন এজন্য প্রয়োজন রয়েছে কমপ্লেক্স আলোচনার. তিনি বলেন- আমরা এখন পর্যন্ত অসন্তুষ্ট বাল্টিকে সংখ্যালঘু রুশ ভাষায় জনগনের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে, আমরা জানি ইউরোপিয় দেশগুলির ইমিগ্রান্ট অধিকারের বিষয়ে কিভাবে তারা লংঘন করছে এবং ইউরোপের কোন কোন দেশের জেলখানার পরিস্থিতি সম্পর্কেও আমরা অবগত. আমাদের সে ধরনের কিছু কিছু সমস্যা রয়েছে. তাই আমরা মনে করি এই সব কমপ্লেক্স সমস্যার বিষয়ে ব্যাপক আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে রাশিয়া এবং ইউরোপিয় ইউনিয়নের উভয়ের সমস্যার সমাধানের রাস্তা একসাথে খুজে বের করা যায়.


0ইউরোপিয় পার্টনারদের সাথে সংগতি রেখে রাশিয়া এ বিষয়ে আপোষ করতে প্রস্তুত. তাদের স্বার্থকে সম্মান ও অনুধাবন করে ইউরোপের সাথে এগিয়ে যেতে. এবং নিজেদের বিষয়েও সম্পর্ক তৈরীর দাবি রাখে. এটা অত্যান্ত আনন্দের যে এ বিষয়ে মস্কো ও ব্রাসেল্সের ঐক্যমতের সৃষ্টি হয়েছে.