ইরান যদি তার নিজের দেশের জ্বালানী তেল রপ্তানি কমিয়ে দেয় বা রপ্তানী বন্ধ করে দেয় তাহলে আন্তর্জাতিক বিশ্বে এই কালো সোনার বাজারে এর পরিনাম হবে ভয়াবহ. OPEC এর সেক্রেটারী জেনারেল আব্দুল্লাহ আল বাদরী এই ধরনের হুশিঁয়ারি দিয়েছেন.

    আব্দুল্লাহ আল বাদরী নিশ্চিত যে যদি ইরানের সাথে কোন ধরনের যুদ্ধ লেগে যায় তাহলে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাবে সীমাহিনভাবে. ইরান বর্তমানে জ্বালানি তেল রপ্তানিতে উপেকের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে. প্রতিদিন ইরান প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ব্যারেল তেল উত্তলন করছে. এবং ওপেক কোনভাবে ইরানের জ্বালানী তেলের রপ্তানি ঘাটতি পুরন করতে পারবে না. The international   herald  tribune কে দেয়া স্বাক্ষাত্কারে তা জানিয়েছে ওপেকের সেক্রেটারি জেনারেল.

     আব্দুল্লাহ আল বাদরী একথাই বোঝাতে চেয়েছেন যে ইরানের পারমানবিক প্রোগ্রামের সমস্যা শান্তিপূর্ন সমাধানেই হওয়া উচিত. আর পশ্চিমা বিশ্ব যুদ্ধের দিকেই ঝুকে পরতে চাইছে. অন্যদিকে ইরান পশ্চিমাদের অন্যায় দোষারুপ কোন রকমেই মানতে রাজি নয়. ইরান বলতে চাইছে তাদের দেশে পরমানু প্রযুক্তির ব্যাবহার শুধুই জনকল্যানে. আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধির প্রধান কারনগুলি এখনো বিভিন্ন রাষ্ট্রের মত ভিন্নতা রয়েছে. সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ডলারের মূল্য পতনই জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধি প্রধান কারন মনে করা হলেও রাশিয়ার ফিন্যান্স একাডেমির ফিন্যান্স ইন্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের প্রধান বরিস রুবতসভ মনে করেন তা শুধু বাড়িয়ে বলা হচ্ছেঃ ‘’আমার মতে প্রধান কারন বিশ্বে জ্বালানী তেলের রিজার্ভ কমে যাওয়া এবং চীন ও ভারতের অর্থনীতি বিকাশে জ্বালানী তেলের প্রচুর ব্যাবহার. অন্যদিকে অবশ্যই মার্কিন ডলারের মূল্য পতন  জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধির একটা প্রভাব রয়েছে তবে তা অবশ্যই প্রধান কারন নয়’’

     এখন এটাই প্রতীয়মান হয় যে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি প্রকৃতির সম্পদ ও ভূ-রাজনীতির উপর একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে. যাই বলা হোকনা কেন, মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে ও গ্রেট বৃটেনে হঠাত জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার ইরানের ক্ষেপনাস্ত্র পরিক্ষার বদৌলতেই হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন. এর ফলে ৭ ডলার বৃদ্ধি পেয়ে জ্বালানী তেলের বর্তমান মূল্য ১৪১ ডলারে এসে পৌছেছে প্রতি ব্যারেল. আর ভূ-রাজনীতিতে এটা একটা বড় ধরনের সংকেত বহন করে.