ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি নিকোলিয়া সার্কোজি ইউরোপে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংক্রান্ত রাশিয়ার প্রস্তাবে আগ্রহ প্রকাশ  করেছে. এ সমন্ধে স্ট্রাসবুর্গে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন ইউরোপার্লামেন্ট প্রতিনিধিদের সামনে বক্তৃতা দেয়ার পরে. আমাদের রাজনৈতিক ভাষ্যকার ভিক্টোর ইয়েনিকোভ লিখেছেন-                                                              

     মনে করিয়ে দেই যে, এমন ধারনা প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দমিত্রি মেদভেদেভ সম্প্রতি জার্মান সফরের সময়. সেখানে তিনি প্রস্তাব করেন ইউরোপ মহাদেশের সব রাষ্ট্র, এবং তাছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র , কানাডা এবং অন্যান আগ্রহি পক্ষের নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধানের বাধ্যতামুলক চুক্তি প্রনয়নের উদ্দেশ্যে.                

     উল্লেখযোগ্য য়ে ফ্রান্সের রাস্ট্রপতি হলেন প্রথম প্রভাবশালী ইউরোপীয় ও বিশ্বনেতা যিনি এমন দ্ব্যর্থহীনভাবে সমর্থন করেছেন.এ ধারনার বাস্তবায়ন রাশিয়া ও ইউরো সংঘের মাঝে সম্পর্ক সহজ করতে সাহায়্য করবে. সেই সংগে এও গুরুত্তপূর্ন যে নিকোলিয়া সার্কোজি সংগে সংগে তাকে প্রয়োগিক দিকে নিয়ে আসেন এবং ইউরোসংঘের শীর্ষ সাক্ষাতে  এ ব্যাপারে আলোচনা করার প্রস্তাব করেন. এও পৃথক মনোযগের বিষয় যে ফ্রান্সের রাস্ট্রপতি একক নিরাপত্তার এলাকার কথা বলেন. আটলান্টিক থেকে উরাল পর্যন্ত নয়,বরং ভানকুভার থেকে ভ্লাদিভস্তক পর্যন্ত. যদিও উল্লেখ করতে চাই য়ে সোভিয়েত নেতারাও বিশেস করে সোভিয়েত ইউনিয়নের রাস্ট্রপতি মিখাইল গর্ভাচেভ, আটলান্টিক থেকে ভ্লাদিভাস্তক পর্যন্ত ইউরোপীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার আকাংখার কথা বলেছেন.

     গুরুত্তপূর্ন শুধু এই নয় যে প্যারিস মস্কোর প্রস্তাব সমর্থন করেছেন. তাছাড়া প্যারিস সেই ধরনের দৃষ্টভংগীরও অংশভাগী যা রাশিয়ার রাস্ট্রপতি মেদভেদেভ এই গুরুত্তপূর্ন সমস্যার ফিরতে উদ্বুদ্ধ করেছে. তিনি একবার ঠিকই বলেছেন যে ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থা বা ন্যাটো জোট ইউরোপীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সক্ষম নয়. আর ১৯৭৫ সালের হেলসিন্কি শেষ বিধান বহুকাল আগেই সেকেল হয়ে পড়েছে. সেই সংগে যোগ করতে চাই যে রাশিয়ার অংশগ্রহন ছাড়া এ প্রশ্নের মীমাংসা সম্ভব নয়, উপরন্ত রাশিয়ার  জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থের ক্ষতিতে এ প্রশ্নের মীমাংসার চেষ্টা ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক. আর দুঃখের ব্যাপার, এ প্রবনতাই সাম্প্রতিককালে পরিলক্ষিত হচ্ছে. ন্যাটো অবাধে পূর্ব দিকে রাশিয়ার সীমানার দিকে সম্প্রসারন চালিয়ে যাচ্ছে. এখন তার সদস্য হচ্ছে আলবেনিয়া ও ক্রোয়েশিয়া. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চেকপ্রজাতন্ত্রে এবং পোল্যান্ডে অথবা লিথুনিয়াতে দশটি ইন্টারসেপ্টার রকেট বসানোর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে. রকেট বিরোধী প্রশিক্ষন ব্যাবস্থার কাঠামোতে.বুলগেরিয়া ও রুমানিয়াতে সামরিক ঘাটি নির্মান করতে চায়. ওয়াশিংটন একরোখাভাবে ইউক্রেন ও জর্জিয়াকে ন্যাটো জোটে টানার নীতি চালিয়ে যাচ্ছে. এদিকে জোটের দেশগুলি ইউরোপে সাধারন অস্ত্রসজ্জার চুক্তি অনুমোদন করছে না. যদিও রাশিয়া বহুকাল আগেই তা করেছে.                                                            

       মার্কিনযুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো নিজেদের এসব ক্রিয়াকলাপের জন্য রাশিয়ার প্রতি শত্রুভাবাপন্ন নয় এবং পৃথিবীতে গনতন্ত্রের অগ্রগতির জন্য প্রয়োজনীয় বলে অভিহিত করেছেন. যদি এটা তাই হয়, তাহলে তাদের তা কথায় নয়, কার্যক্ষেত্রে দেখানোর সুন্দর সুযোগ আছে. নতুন ইউরোপীয় নিরাপত্তা ব্যাবস্থা গঠন সম্পর্ক রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দমিত্রি মেদভেদেভের প্রস্তাব গ্রহন করে. যতটা বোঝা যাচ্ছে জাপানে বৃহত অষ্টাদেশের শীর্ষ সম্মেলনে জার্মানির চ্যান্সেলর আংগেলা মেকেলও আগ্রহ প্রকাশ করেছে মস্কোর উদ্যেগের প্রতি. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ ও এতে না বলেননি. তাই মনে হয় এ ধারনাটির সুন্দর পরিপ্রেক্ষিত রয়েছে.